আহ, জাপান! যখনই জাপানের কথা ভাবি, তখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেরি ফুলের অসাধারণ সৌন্দর্য, কোলাহলপূর্ণ টোকিওর ব্যস্ততা আর সেই সাথে পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা শান্ত মন্দিরগুলো। জাপানের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই ছুটে যান, আর অনেকেই স্বপ্ন দেখেন গাড়ি চালিয়ে এর প্রতিটি কোণ ঘুরে দেখার। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, জাপানে গাড়ি চালানোর অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম, এখানকার রাস্তাঘাট এতটাই পরিপাটি আর ট্রাফিক সিস্টেম এতটাই সুশৃঙ্খল যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।তবে জানেন কি, এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট এবং কঠোর নিয়মকানুন?
শুধু গাড়ির চালকদের জন্যই নয়, সাইকেল আরোহী বা পথচারী হিসেবেও জাপানে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা অত্যাবশ্যক। ইদানীং সাইকেল নিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাইকেল চালকদের জন্যেও নতুন করে বেশ কিছু কড়া আইন আনা হয়েছে, যা না জানলে হঠাৎ বিপদে পড়তে হতে পারে। তাই জাপানে আপনি গাড়ি চালান বা না চালান, সেখানকার সড়ক ও ট্রাফিক নিয়মাবলী সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। নইলে হয়তো একটি ছোট ভুলও আপনার জাপান ভ্রমণের আনন্দ মাটি করে দিতে পারে, কিংবা পকেট থেকে বেশ কিছু ইয়েন বেরিয়ে যেতে পারে!
এই সবকিছু মিলিয়ে জাপানের রাস্তাঘাটে নিরাপদে চলাচলের জন্য যা যা জানা দরকার, তার সবকিছুই আজ আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব। এই বিষয়ে আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতাও আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব, যা আপনাদের জন্য দারুণ সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাহলে আর দেরি কেন?
চলুন, জাপানের ট্রাফিক ব্যবস্থার গভীরে প্রবেশ করে সব খুঁটিনাটি নিশ্চিতভাবে জেনে নেওয়া যাক!
জাপানের রাস্তায় গাড়ি চালানোর আদ্যোপান্ত

বাম হাতে ড্রাইভিং: প্রথম ধাক্কা আর অভ্যস্ত হওয়ার গল্প
যখন প্রথম জাপানে এসে ড্রাইভিং সিটে বসলাম, সত্যি বলতে একটু নার্ভাস ছিলাম। ভাবুন তো, বছরের পর বছর ডান হাতে গাড়ি চালানোর অভ্যাস, আর হঠাৎ করে সব উল্টো! আমার মনে আছে, প্রথম কয়েকদিন ওয়াইপার আর ইন্ডিকেটর নিয়ে একটা গোলমাল লেগেই থাকত। ব্রেক চাপতে গিয়ে প্রায়ই ভুলে বাম হাত দিয়ে ওয়াইপার অন করে দিতাম, আর তখন সামনের কাঁচ পরিষ্কার হতে শুরু করত। পেছনের গাড়ির ড্রাইভার হয়তো ভাবত, এই লোকটা কী করছে! তবে মজার ব্যাপার হলো, জাপানের রাস্তাগুলো এতটাই মসৃণ আর নিয়মকানুন এতটাই পরিষ্কার যে, ধীরে ধীরে বাম হাতে গাড়ি চালানোর অভ্যাস হয়ে যায়। এখানকার চালকরাও বেশ ধৈর্যশীল, তাই শুরুতে একটু আনাড়ি হলেও কেউ খুব একটা বিরক্ত করে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদি আপনি ধৈর্য ধরে প্রথম কয়েকদিন অনুশীলন করেন, তাহলে এই বাম হাতের ড্রাইভিং আপনার কাছে আর কোনো সমস্যা মনে হবে না। বরং কিছুদিনের মধ্যেই আপনি বেশ সাবলীলভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন। জাপানে গাড়ি চালানোর সময় শুধু নিজের দিকে নয়, আশেপাশের অন্যান্য গাড়ি এবং পথচারীদের দিকেও সমান মনোযোগ দিতে হয়। বিশেষ করে মোড় ঘোরার সময় বা ইন্টারসেকশনে প্রবেশ করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি। এখানকার ড্রাইভিং কালচার এতটাই পরিশীলিত যে, একটি ছোট ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে না, যদি না আপনি খুব বড় কোনো অনিয়ম করেন। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথম ধাক্কাটা সামলে নিতে পারলেই জাপানে গাড়ি চালানো একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। এখানকার শৃঙ্খলাপরায়ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা আপনাকে এক নতুন ধরনের ড্রাইভিং আনন্দ দেবে, যা হয়তো অন্য কোনো দেশে পাওয়া কঠিন।
স্পিড লিমিট আর সিটবেল্ট: সামান্য ভুলে মোটা জরিমানা!
আমার এক বন্ধুর অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একদিন সে সামান্য একটু অসতর্ক ছিল। হাইওয়ের উপর দিয়ে যাচ্ছিল, আর স্পিড লিমিট ছিল ১০০ কিমি/ঘণ্টা। কিন্তু সে হয়তো ফোনে কথা বলছিল বা অন্য কোনো কারণে একটু বেশি মনোযোগ ছিল না, তাই ১০০-র জায়গায় ১২০ কিমি/ঘণ্টা বেগে চলে গিয়েছিল। ফলাফল? মুহূর্তেই ক্যামেরার ফ্ল্যাশ! কিছুদিনের মধ্যেই তার বাড়িতে ফাইন চলে এসেছিল, যা দেখে তার চক্ষু চড়কগাছ। প্রায় ১৫,০০০ ইয়েন জরিমানা! ভাবুন তো, সামান্য কয়েক কিলোমিটার বেশি গতিতে চালানোর জন্য এত টাকা! জাপানে স্পিড লিমিট অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। শহরের ভেতরে সাধারণত ৩০-৬০ কিমি/ঘণ্টা আর হাইওয়েতে ৮০-১০০ কিমি/ঘণ্টা। শুধু তাই নয়, চালক থেকে শুরু করে গাড়ির প্রতিটি যাত্রীর জন্য সিটবেল্ট পরা বাধ্যতামূলক। আমি নিজেও প্রথম দিকে পেছনের সিটে সিটবেল্ট পরার গুরুত্বটা এতটা বুঝতাম না, কিন্তু জাপানে আসার পর দেখেছি, পুলিশ খুব কঠোরভাবে এই নিয়মগুলো মেনে চলতে বলে। যদি সিটবেল্ট না পরেন, তাহলেও কিন্তু জরিমানা গুনতে হবে। আমার মনে হয়, এসব নিয়মকানুন মূলত যাত্রীদের সুরক্ষার জন্যই। তাই একটু সতর্ক থাকলেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে বাঁচা যায় এবং পকেটের টাকাও বাঁচে। নিজের এবং সহযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য, এই ছোট ছোট নিয়মগুলি মেনে চলা খুবই জরুরি, যা আপনাকে বড় বিপদ এবং মোটা অংকের জরিমানা থেকে বাঁচিয়ে দেবে। জাপানের ট্রাফিক পুলিশ এসব বিষয়ে একদম ছাড় দেয় না, তাই সাবধান থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সাইকেল আরোহীদের জন্য নতুন আইন: এড়াতে পারেন না!
সাইকেল হেলমেট: কেন জরুরি আর কী বলছে নতুন নিয়ম
জাপানে সাইকেল চালানোটা একটা অন্যরকম আনন্দ। বিশেষ করে শহরগুলোতে সাইকেলের জন্য আলাদা লেনও থাকে অনেক জায়গায়। তবে ইদানীং সাইকেল দুর্ঘটনা বেশ বেড়েছে, আর তাই সরকারও সাইকেল চালকদের জন্য বেশ কিছু কড়া নিয়ম এনেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা। আমার এক কাজিন, যে জাপানেই থাকে, সে বলছিল, আগে হেলমেট না পরলেও তেমন কিছু বলা হতো না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। পুলিশ যদি দেখে আপনি হেলমেট ছাড়া সাইকেল চালাচ্ছেন, তাহলে আপনাকে সতর্ক করবে, এমনকি জরিমানা করার ক্ষমতাও তাদের আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। কারণ, ছোটখাটো দুর্ঘটনায় হেলমেট আপনার মাথাকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য তো এটা একদমই আবশ্যক। বাচ্চারা সাইকেল চালানোর সময় একটু বেশিই দুষ্টুমি করে, তাই তাদের মাথায় আঘাত লাগার ঝুঁকি বেশি থাকে। জাপানের অনেক দোকানে এখন সাইকেল হেলমেট খুব সহজেই পাওয়া যায়, দামও খুব বেশি নয়। তাই নিজের সুরক্ষার জন্য হেলমেট পরাটা জরুরি। শুধুমাত্র নিয়ম মানার জন্য নয়, নিজের জীবন বাঁচাতে হেলমেটের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা ভাবছেন জাপানে সাইকেল কিনবেন বা ব্যবহার করবেন, তারা অবশ্যই একটি ভালো মানের হেলমেট কিনে নেবেন। বিশ্বাস করুন, এটি আপনার জাপান ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে।
ট্রাফিক লাইট আর পথচারীর অগ্রাধিকার: সাইকেল চালকের দায়িত্ব
সাইকেল চালক মানেই যে সব নিয়ম থেকে আপনি মুক্ত, এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল করবেন। জাপানে সাইকেল চালকদেরও গাড়ির চালকদের মতোই অনেক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে হয়। ট্রাফিক লাইটের ক্ষেত্রে সাইকেল চালকদের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই, বরং তাদের গাড়ির মতোই লাল বাতিতে থামতে হয় এবং সবুজ বাতিতে যেতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পথচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। যখন কোনো পথচারী জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন, তখন সাইকেল চালকদের অবশ্যই থামতে হবে এবং পথচারীকে আগে যেতে দিতে হবে। আমি প্রায়ই দেখি, অনেক সাইকেল চালক এই নিয়মটা ঠিকঠাক মানেন না, তাড়াহুড়ো করে পথচারীদের পাশ কাটিয়ে চলে যান। এটা খুবই বিপজ্জনক এবং এর জন্য কিন্তু বড় ধরনের জরিমানা হতে পারে। আমার এক পরিচিত জাপানিজ বন্ধু একবার গল্প করছিল, একজন সাইকেল চালক পথচারীকে ধাক্কা মেরেছিল, আর তার জন্য তাকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। জাপানে আইন এতটাই কঠোর যে, একটি ছোট ভুলের জন্যও আপনাকে অনেক বড় মাশুল গুণতে হতে পারে। তাই সাইকেল চালানোর সময় ট্রাফিক লাইট এবং পথচারীর অধিকারকে সম্মান জানানোটা খুবই জরুরি। শুধু জরিমানা এড়ানোর জন্য নয়, অন্যের জীবনের নিরাপত্তার জন্যও আপনার এই সতর্কতা খুবই প্রয়োজন। মনে রাখবেন, জাপানের রাস্তায় সবাই নিরাপদ থাকুক, এটাই সবার কাম্য।
পথচারী হিসেবে আপনার দায়িত্ব কী?
জেব্রা ক্রসিং আর সিগন্যাল: জীবনের নিরাপত্তা
অনেকেই মনে করেন, পথচারীদের কোনো নিয়ম মানতে হয় না, সব নিয়ম বুঝি গাড়ি আর সাইকেল চালকদের জন্য। কিন্তু জাপানে পথচারী হিসেবেও আপনার কিছু দায়িত্ব আছে, যা আপনার নিজের জীবন এবং অন্যের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমার চোখে দেখা একটা ঘটনা বলি, একবার একজন পর্যটক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে জেব্রা ক্রসিংয়ের বাইরে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ করে একটা গাড়ি চলে আসায় তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান। জাপানে জেব্রা ক্রসিং এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাটা পথচারীদের জন্য আবশ্যক। লাল বাতিতে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে এবং সবুজ বাতি জ্বললে তবেই রাস্তা পার হতে হবে। আর জেব্রা ক্রসিংয়ের বাইরে দিয়ে রাস্তা পার হওয়াটা একদমই নিষিদ্ধ। পুলিশ যদি আপনাকে জেব্রা ক্রসিংয়ের বাইরে দিয়ে রাস্তা পার হতে দেখে, তাহলে তারা আপনাকে সতর্ক করতে পারে। যদিও এর জন্য সাধারণত জরিমানা হয় না, তবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়াটা তো বোকামি। আমি নিজে দেখেছি, এখানকার পথচারীরা কতটা শৃঙ্খলাপরায়ণ। তারা ধৈর্যের সাথে সিগন্যাল পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই জাপানের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে এত নিরাপদ করে তুলেছে। নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অন্যকে বিপদে না ফেলতে, জেব্রা ক্রসিং এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলুন, দেখবেন আপনার ভ্রমণটা আরও মসৃণ হবে।
ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটা: বিপদ আপনারই
আধুনিক জীবনে মোবাইল ফোন আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অনেক সময় আমরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনি। জাপানে হেঁটে চলার সময় ফোনে কথা বলা বা টেক্সট করাটা অনেক ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক হতে পারে। আমি প্রায়ই দেখি, টোকিওর ব্যস্ত রাস্তায় অনেকে মাথা নিচু করে ফোন দেখতে দেখতে হাঁটছেন। আশেপাশে কী ঘটছে, সেদিকে তাদের কোনো মনোযোগ নেই। এর ফলে অন্য পথচারীদের সাথে ধাক্কা লাগা, কিংবা রাস্তায় পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটে। একবার আমি নিজেই প্রায় একটা সাইকেলের নিচে পড়তে যাচ্ছিলাম, কারণ আমার মনোযোগ ছিল ফোনে। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি যে, হাঁটার সময় ফোনের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। কিছু কিছু এলাকায় তো ‘স্মার্টফোন হাঁটা’ (Smartphone Walking) এর বিরুদ্ধে সচেতনতা কর্মসূচিও চালানো হয়। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে নিজেদের সুরক্ষায় সচেতন করা। যদিও এর জন্য সরাসরি কোনো আইন বা জরিমানা নেই, তবে একটি ছোট ভুলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। নিজের এবং অন্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে, হাঁটার সময় ফোন পকেটে রাখুন। জাপানের সুন্দর রাস্তাঘাট এবং চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করুন, স্মার্টফোনের স্ক্রিনে আটকে না থেকে। আপনার মনোযোগ রাস্তার দিকে রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে এবং আপনার জাপানের অভিজ্ঞতাও আরও সুন্দর হবে।
ট্রাফিক সংকেত এবং সাইন বোর্ড: কিছু ভুল ধারণা
লাল, হলুদ, সবুজ: জাপানের সংকেত ভিন্ন কিছু?
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ট্রাফিক লাইটের রঙ একই অর্থ বহন করে—লাল মানে থামো, হলুদ মানে প্রস্তুত হও, আর সবুজ মানে যাও। জাপানেও এর ব্যতিক্রম নেই, তবে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে যা অনেকেই হয়তো জানেন না। আমার এক বন্ধু একবার অভিযোগ করছিল যে, জাপানে নাকি লাল বাতি অনেক দ্রুত হলুদ হয়ে যায়, তাই দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হয়। আসলে ব্যাপারটা হলো, জাপানে হলুদ বাতির স্থায়িত্ব অনেক কম। যখন লাল বাতি থেকে সবুজ হয়, তখন মাঝখানে হলুদ বাতি খুব অল্প সময়ের জন্য জ্বলে। তাই ড্রাইভারদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয়। আবার অনেক জায়গায় দেখবেন, ছোট ছোট অতিরিক্ত সবুজ তীর সংকেত থাকে। এই তীরগুলো নির্দেশ করে যে, আপনি মূল লাইট লাল থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট দিকে মোড় নিতে পারবেন। এটা না জেনে অনেকেই দাঁড়িয়ে থাকেন, আর পেছনের গাড়ি বিরক্ত হয়। আমি প্রথম যখন জাপান আসি, তখন এই তীর সংকেতগুলো দেখে বেশ বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। কিন্তু একবার শিখে গেলে, এটা ট্রাফিক প্রবাহকে মসৃণ রাখতে কতটা সাহায্য করে, তা বোঝা যায়। তাই জাপানে গাড়ি চালানোর আগে এখানকার ট্রাফিক সংকেতগুলো সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো জানা থাকলে আপনি কেবল জরিমানা থেকেই বাঁচবেন না, বরং জাপানের রাস্তায় আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে গাড়ি চালাতে পারবেন এবং আপনার যাত্রা আরও আনন্দদায়ক হবে।
রাস্তার চিহ্নগুলো চেনা: ভুল না করার উপায়
জাপানের রাস্তার সাইন বোর্ডগুলো দেখে মাঝে মাঝে মনে হতে পারে, এগুলো একটা অন্য ভাষার লিপি! জাপানিজ ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি বা রোমান অক্ষরে লেখা সাইন বোর্ড সাধারণত পর্যটন কেন্দ্র বা প্রধান সড়কগুলোতে দেখা যায়। কিন্তু যখন আপনি একটু ভেতরের দিকে যাবেন, তখন হয়তো শুধুমাত্র জাপানিজ ভাষায় লেখা সাইন বোর্ড দেখতে পাবেন। এটা আমার জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ আমি জাপানিজ ভাষা ততটা জানি না। তাই আমি প্রথম দিকে সবসময় গুগল ম্যাপস বা অন্য কোনো নেভিগেশন অ্যাপের উপর নির্ভরশীল থাকতাম। তবে কিছু সাধারণ সাইন বোর্ড আছে যেগুলো চিত্রের মাধ্যমে নির্দেশিত, সেগুলো সহজেই বোঝা যায়, যেমন ‘স্টপ’ সাইন (আটকোণা লাল রঙের) বা ‘ইয়েল্ড’ সাইন (উল্টো ত্রিভুজ)। এই সাইনগুলো সর্বজনীন, তাই এগুলো চিনতে কোনো সমস্যা হয় না। এছাড়াও, গাড়ির গতিসীমা, পার্কিং নিষিদ্ধ এলাকা, বা একমুখী রাস্তা নির্দেশক সাইনগুলোও সাধারণত আন্তর্জাতিক মানের হয়ে থাকে। আমি আপনাদের পরামর্শ দেব, জাপানে আসার আগে কিছু সাধারণ ট্রাফিক সাইন বোর্ডের ছবি দেখে নিতে পারেন, যা আপনাকে অপ্রত্যাশিত সমস্যা থেকে বাঁচাবে। এতে আপনার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা আরও সহজ হবে এবং আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জাপানের সুন্দর রাস্তাগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন, কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই।
দুর্ঘটনা ঘটলে কী করবেন? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে

শান্ত থাকুন: প্রথম পদক্ষেপ
জীবনে কখনও না কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেই যায়। জাপানে গাড়ি চালানোর সময় যদি দুর্ভাগ্যবশত কোনো দুর্ঘটনায় পড়েন, তাহলে সবার আগে যেটি জরুরি, তা হলো শান্ত থাকা। আমি একবার একটা ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম, যেখানে আমি পিছন থেকে একটা গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছিলাম। এটা ছিল পার্কিং লটে, খুব সামান্য ধাক্কা। কিন্তু আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল, কারণ আমি জানি জাপানে এসব বিষয়ে কতটা কঠোর। কিন্তু আমার সাথে থাকা জাপানিজ বন্ধুটি আমাকে শান্ত থাকতে বলেছিল। প্রথমত, ভয় না পেয়ে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালান। এরপর গাড়ির বাইরে এসে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। যদি কোনো আঘাত না লাগে বা ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবুও আতঙ্কিত হওয়া চলবে না। নিজের আইডিয়া, বিমার কাগজপত্র সবকিছু হাতের কাছে রাখুন। জাপানের ট্রাফিক আইনে ছোট হোক বা বড়, যেকোনো দুর্ঘটনার পর পুলিশকে জানানো বাধ্যতামূলক। তাই প্রথমেই পুলিশকে খবর দিন। যদিও এটি ভীতিকর অভিজ্ঞতা হতে পারে, তবে শান্ত থাকা এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। আমার সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি যে, শান্ত মন নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়।
পুলিশ আর বিমা কোম্পানি: দ্রুত যোগাযোগ
দুর্ঘটনার পর শান্ত থাকার পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ এবং আপনার বিমা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা। আমি যখন সেই ছোট দুর্ঘটনায় পড়েছিলাম, তখন আমার বন্ধু তৎক্ষণাৎ পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করেছিল। পুলিশ আসার আগে অন্য গাড়ির চালকের সাথে কোনো আর্থিক লেনদেনের কথা বা দায় স্বীকার করার কথা একদমই বলবেন না। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সব খতিয়ে দেখবে এবং একটি রিপোর্ট তৈরি করবে। এই রিপোর্টটি আপনার বিমা দাবির জন্য অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ আসার পর আপনি তাদের কাছে ঘটনার বিবরণ দিন। এরপর আপনার বিমা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন। বিমা কোম্পানিকে ঘটনার বিস্তারিত জানান এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিন। জাপানে বিমা ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী, তাই আপনার যদি সঠিক বিমা পলিসি থাকে, তাহলে বেশিরভাগ খরচই বিমা কোম্পানি বহন করবে। আমার ক্ষেত্রেও বিমা কোম্পানি সব ধরনের কাগজপত্র তৈরি করে দিয়েছিল এবং ক্ষতির মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনি অনেক বড় ঝামেলা থেকে বাঁচতে পারেন। অযথা ভয় পেয়ে বা নিজে থেকে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করবেন না। আইন অনুযায়ী চলুন এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
লাইসেন্স এবং কাগজপত্র: প্রয়োজনীয় সবকিছু
আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স: মেয়াদ এবং নবায়ন
জাপানে গাড়ি চালানোর জন্য একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা অত্যাবশ্যক। যদি আপনি জাপানের বাসিন্দা না হন, তবে আপনার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স (International Driving Permit – IDP) লাগবে। আমি আসার আগে আমার দেশ থেকে IDP করিয়ে নিয়েছিলাম। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, IDP-এর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, সাধারণত এক বছর। আমার মনে আছে, আমার IDP-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম, কারণ আমি তখনও জাপানিজ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে পারিনি। IDP নবায়নের জন্য আপনাকে আবার নিজের দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে, যা বেশ ঝামেলাপূর্ণ। তাই যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য জাপানে থাকার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত জাপানের স্থানীয় ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা। এটি একটি অপেক্ষাকৃত জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে লিখিত পরীক্ষা এবং ড্রাইভিং পরীক্ষা উভয়ই দিতে হয়। তবে একবার পেয়ে গেলে আর কোনো চিন্তা থাকে না। আমি দেখেছি, অনেকে প্রথম দিকে IDP দিয়ে চালিয়ে নিলেও পরে স্থানীয় লাইসেন্স নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। এটি কেবল আইনগত ঝামেলা থেকে বাঁচায় না, বরং জাপানে আপনার পরিচয়পত্র হিসেবেও কাজ করে। তাই সময় থাকতে এই বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
গাড়ির শংসাপত্র: সবসময় সঙ্গে রাখুন
শুধুমাত্র আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেই হবে না, গাড়ির প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও আপনার সাথে সবসময় থাকতে হবে। এর মধ্যে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (車検証 – shaken sho), বিমা পলিসির কাগজপত্র এবং গাড়ির নিয়মিত পরিদর্শনের সার্টিফিকেট (点検記録簿 – tenken kirokubo) অন্যতম। আমার এক বন্ধু একবার সামান্য ট্রাফিক চেকিংয়ের সময় তার গাড়ির কাগজপত্র সাথে না থাকায় বেশ বিপদে পড়েছিল। পুলিশ তাকে সতর্ক করেছিল এবং বলেছিল যে, যদি সে কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার জন্য জরিমানা হতে পারে। জাপানে পুলিশ খুবই নিয়ম মেনে চলে, তাই তারা এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেয় না। আমি নিজে সবসময় একটি ছোট ফাইলে আমার গাড়ির সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখি এবং এটি গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বা গ্লাভ বক্সে রাখি, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত বের করতে পারি। এসব কাগজপত্র নিয়মিত আপডেট করা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নবায়ন করা জরুরি। যদি আপনার গাড়ি ভাড়া করা হয়, তাহলে রেন্টাল কোম্পানির পক্ষ থেকে সব কাগজপত্র দেওয়া হবে। তবে সেগুলো আপনার কাছে আছে কিনা, তা নিশ্চিত করে নিন। মনে রাখবেন, কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখলে আপনি অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকে বাঁচবেন এবং জাপানের রাস্তায় আরও স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি চালাতে পারবেন।
জাপানে গাড়ি চালানোর খরচ: পকেটের হিসেব নিকেশ
জ্বালানি আর টোল ট্যাক্স: খরচের আসল চিত্র
জাপানে গাড়ি চালানোর খরচ অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি এবং টোল ট্যাক্সের কারণে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথম যখন আমি জাপানে গাড়ি চালানো শুরু করি, তখন ভেবেছিলাম শুধু গাড়ির দাম আর জ্বালানির খরচই মূল বিষয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম, টোল ট্যাক্স একটি বড় খরচ। জাপানের হাইওয়েগুলো খুবই উন্নত এবং মসৃণ, কিন্তু সেগুলোর ব্যবহার বেশ ব্যয়বহুল। উদাহরণস্বরূপ, টোকিও থেকে ওসাকা যেতে টোল বাবদ আপনাকে প্রায় ১০,০০০ ইয়েন বা তারও বেশি খরচ করতে হতে পারে। তাই দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে টোল ট্যাক্সের একটি হিসেব করে নেওয়া জরুরি। এছাড়াও, পেট্রোলের দামও কিছুটা বেশি। আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন গ্যাস স্টেশন থেকে তেল ভরতে যেখানে অফার থাকে, বা কোনো কার্ড ব্যবহার করে কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়। তেল ভরার সময়ও একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, এখানে গ্যাসোলিনের বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে, যেমন Regular, High-Octane ইত্যাদি। আপনার গাড়ির জন্য কোনটি উপযুক্ত, তা জেনে নেওয়া ভালো। এই খরচগুলো আগে থেকে জানা থাকলে আপনার বাজেট পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে এবং অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক চাপ থেকে বাঁচবেন। জাপানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গাড়ি ভ্রমণ খুবই চমৎকার, তবে খরচের হিসেবটা মাথায় রাখলে ভ্রমণটা আরও আনন্দদায়ক হবে।
পার্কিং: একটি বড় মাথা ব্যথা
জাপানে গাড়ি চালানোর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পার্কিং। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে পার্কিং খুঁজে পাওয়াটা বেশ কঠিন এবং ব্যয়বহুল। আমার মনে আছে, একবার আমি টোকিওতে একটি জায়গায় গিয়েছিলাম, আর প্রায় আধঘণ্টা ধরে পার্কিং খুঁজছিলাম। শেষমেশ যে পার্কিং পেয়েছিলাম, সেটির ঘণ্টাপ্রতি ভাড়া ছিল প্রায় ৫০০ ইয়েন! পার্কিংয়ের খরচ এতটাই বেশি যে, অনেক সময় এটি আপনার ভ্রমণের বাজেটকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতে, যদি আমার গন্তব্যে সরাসরি ট্রেন বা বাস যায়। আর যদি গাড়ি নিয়ে যেতেই হয়, তাহলে আগে থেকে পার্কিংয়ের জায়গা এবং তার খরচ সম্পর্কে জেনে নিই। অনেক হোটেল বা শপিং মলে নিজস্ব পার্কিং সুবিধা থাকে, তবে সেগুলোরও চার্জ থাকতে পারে। ছোট শহরগুলোতে অবশ্য পার্কিং খুঁজে পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ এবং কম ব্যয়বহুল। কিছু জায়গায় ‘পেইড পার্কিং’ (Paid Parking) এর পাশাপাশি ‘ফ্রি পার্কিং’ (Free Parking) এর ব্যবস্থাও থাকে, তবে সেগুলো খুঁজে বের করাটা ভাগ্যের ব্যাপার। তাই জাপানে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে পার্কিং নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রাখা আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে। অন্যথায়, আপনার মূল্যবান সময় এবং অর্থ দুটোই নষ্ট হতে পারে।
| অপরাধ | সাধারণ জরিমানা (ইয়েন) | পয়েন্ট কাটা |
|---|---|---|
| অতিরিক্ত গতি (২০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত) | ৯,০০০ – ১২,০০০ | ১ |
| সিটবেল্ট না পরা | ৩,০০০ | ১ |
| ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো | ৯,০০০ – ১৮,০০০ | ৩ |
| লাল বাতির সংকেত অমান্য | ৯,০০০ – ১২,০০০ | ২ |
| মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো | ৫০,০০০ – ১,০০,০০০ (এবং আরও গুরুতর শাস্তি) | ২৫+ |
글을মাচি며
জাপানের রাস্তায় গাড়ি চালানোটা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যা অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন। বাম হাতে ড্রাইভিং থেকে শুরু করে কঠোর ট্রাফিক আইন, পার্কিংয়ের চ্যালেঞ্জ এবং সাইকেল আরোহী ও পথচারীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব—সবকিছুই এই দেশের ড্রাইভিং কালচারের অংশ। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রথম দিকে একটু কঠিন মনে হলেও ধৈর্য এবং সচেতনতা থাকলে এই অভিজ্ঞতা আপনার জাপান ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এখানকার নিয়মানুবর্তিতা এবং নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব আপনাকে মুগ্ধ করবে। তাই আসুন, সবাই মিলে জাপানের রাস্তাগুলোকে আরও নিরাপদ রাখি এবং আমাদের যাত্রাগুলোকে আনন্দময় করে তুলি।
알াঠো ঠোমোর
১. বাম হাতে ড্রাইভিংয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এবং প্রথম কয়েকদিন অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে অনুশীলন করুন। ওয়াইপার ও ইন্ডিকেটরের ভুল ব্যবহার শুরুতে একটু হাস্যকর হলেও দ্রুতই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, জাপানের মসৃণ রাস্তা এবং ধৈর্যশীল ড্রাইভাররা আপনাকে এই অভ্যাসে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
২. জাপানের স্পিড লিমিট এবং সিটবেল্ট আইন অত্যন্ত কঠোর। সামান্য ভুলের জন্যও মোটা অঙ্কের জরিমানা হতে পারে, যা আপনার পকেটের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। নিজের এবং সহযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় নিয়ম মেনে চলুন।
৩. সাইকেল চালক এবং পথচারী হিসেবেও আপনার দায়িত্ব আছে। হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক এবং ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পথচারীদের সবসময় অগ্রাধিকার দিন, এটি আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে রক্ষা করবে।
৪. দুর্ঘটনা ঘটলে সবার আগে শান্ত থাকুন এবং যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ ও আপনার বিমা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন। কোনো অবস্থাতেই নিজে থেকে দায় স্বীকার করবেন না বা আর্থিক লেনদেনে যাবেন না। বিমা কাগজপত্র সবসময় সাথে রাখুন।
৫. জ্বালানি খরচ, টোল ট্যাক্স এবং বিশেষ করে পার্কিংয়ের খরচ জাপানে বেশ বেশি হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে একটি ধারণা নিয়ে রাখুন এবং বাজেটের হিসেব করে নিন। এতে আপনার যাত্রা আরও মসৃণ হবে।
প প্ প্
জাপানের রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে শুধু একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়, এটি এক ধরনের অভিজ্ঞতা যেখানে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির দেখা যায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এখানকার প্রতিটি নিয়মই আসলে সবার ভালোর জন্য তৈরি। বাম হাতে ড্রাইভিংয়ের চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে স্পিড লিমিট, সিটবেল্ট পরা, সাইকেল আরোহী ও পথচারীদের অধিকারকে সম্মান জানানো, ট্রাফিক সংকেত বোঝা, এমনকি দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন—এই সবকিছুরই একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবসময় সাথে রাখুন এবং খরচের দিকটিও মাথায় রাখুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জাপানের ট্রাফিক ব্যবস্থা একটি সহনশীল এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে, যদি আপনি নিয়ম মেনে চলেন। তাই সচেতনভাবে গাড়ি চালান, নিরাপদ থাকুন এবং জাপানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যগুলো উপভোগ করুন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সতর্কতা আপনার এবং অন্যদের জীবনকে সুরক্ষিত রাখবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: জাপানে গাড়ি চালানোর জন্য কোন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন এবং এখানকার মূল ড্রাইভিং নিয়মগুলো কী কী?
উ: জাপানে গাড়ি চালানোর স্বপ্ন অনেকেই দেখেন, আর আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখানকার সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা আর পরিপাটি রাস্তাঘাট যেকোনো চালকের জন্যই এক দারুণ অভিজ্ঞতা। তবে গাড়ি চালানোর আগে লাইসেন্স এবং কিছু মূল নিয়ম সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারণা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।প্রথমত, আপনি যদি একজন বিদেশি হন, তাহলে জাপানে গাড়ি চালানোর জন্য আপনার একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট (International Driving Permit – IDP) লাগবে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, শুধু আন্তর্জাতিক পারমিট দিয়ে আপনি জাপানে এক বছরের বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। যদি আপনি দীর্ঘদিনের জন্য জাপানে থাকার পরিকল্পনা করেন, তাহলে আপনাকে জাপানিজ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। কিছু দেশের (যেমন, ভারত, বাংলাদেশ) লাইসেন্স সরাসরি জাপানিজ লাইসেন্সে রূপান্তরিত করা যায় না, সেক্ষেত্রে আপনাকে ড্রাইভিং টেস্ট দিতে হতে পারে। আমার এক বন্ধুর এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, সে ভেবেছিল ভারতীয় লাইসেন্স দিয়েই সব চলবে, কিন্তু পরে তাকে জাপানে এসে আবার সব পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স নিতে হয়েছে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ।এবার আসি মূল ড্রাইভিং নিয়মাবলীতে। জাপানে সবার আগে যেটা মানতে হবে সেটা হলো, এখানে কিন্তু বাম দিক দিয়ে গাড়ি চালানো হয়!
আমাদের দেশের মতো ডান দিক দিয়ে নয়, স্টিয়ারিং হুইলও গাড়ির ডান পাশে থাকে। এটা প্রথমে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে, বিশেষ করে ইউ-টার্ন বা মোড় ঘোরার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয়। আমি প্রথম যখন জাপানে গাড়ি চালালাম, তখন সিগন্যালে ডানে মোড় ঘোরার সময় কয়েকবার ভুল করতে গিয়েছিলাম!
তাই খুব সাবধানে এবং ধীরে গাড়ি চালানো উচিত যতক্ষণ না আপনার অভ্যাস হয়ে যায়।দ্বিতীয়ত, গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। সাধারণত শহরের ভেতরে ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিলোমিটার এবং এক্সপ্রেসওয়েতে ৮০-১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো নিষেধ। স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে সবসময় এগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সামান্য গতিবিধি লঙ্ঘনের জন্যও মোটা অঙ্কের জরিমানা হয়।তৃতীয়ত, অ্যালকোহল পান করে গাড়ি চালানো একেবারেই নিষিদ্ধ। এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর এবং কোনো রকম ছাড় দেওয়া হয় না। আমার ব্যক্তিগত মতে, এই নিয়মটি খুবই ভালো, এতে সড়কের নিরাপত্তা অনেক বেড়ে যায়।এছাড়াও, সিট বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক, চালক এবং যাত্রীদের উভয়ের জন্যই। ছোট বাচ্চাদের জন্য চাইল্ড সিট ব্যবহার করাটাও কিন্তু আইনত বাধ্যতামূলক। জাপানের রাস্তাঘাটে জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারীদের সব সময় অগ্রাধিকার দিতে হয়, এমনকি যদি তাদের জন্য সিগন্যাল নাও থাকে, তবুও গাড়ি থামিয়ে তাদের পার হতে দিতে হবে। এই বিষয়গুলো মেনে চললে আপনার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা অনেক মসৃণ হবে।
প্র: সম্প্রতি জাপানে সাইকেল চালানোর নিয়মকানুন বেশ কঠোর হয়েছে শুনছি। নতুন কী কী নিয়ম এসেছে এবং সেগুলো ভাঙলে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?
উ: হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন! জাপানে সাইকেল চালানোর নিয়মকানুন ইদানীং বেশ কঠোর করা হয়েছে, বিশেষ করে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই বিষয়ে বেশ সতর্ক। আমি নিজেও সাইকেল চালাতে খুব ভালোবাসি, কিন্তু এখানে সাইকেল চালানোর সময় আমাকেও অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়। নতুন কিছু নিয়ম এসেছে যা সাইকেল চালকদের অবশ্যই জানা দরকার।প্রথমত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। আগে অনেকেই সাইকেলকে এক ধরণের খেলাধুলার বস্তু মনে করে ট্রাফিক সিগনাল না মেনে বা ফুটপাথ দিয়ে চলতো। এখন কিন্তু সেটা আর চলবে না। আপনি গাড়িচালকদের মতোই লাল বাতি অমান্য করলে, একমুখী রাস্তায় উল্টো পথে গেলে, অথবা ফুটপাথে (যেখানে সাইকেল চালানোর অনুমতি নেই) সাইকেল চালালে জরিমানা হতে পারে।দ্বিতীয়ত, সাইকেল চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা বা হেডফোন পরে গান শোনা একদম নিষেধ। এতে মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, অনেক তরুণ-তরুণী হেডফোন পরে গান শুনতে শুনতে সাইকেল চালাতো, কিন্তু এখন এটা করলে সরাসরি পুলিশ আপনাকে ধরতে পারে। এই নিয়মগুলো মূলত আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্যই।তৃতীয়ত, রাতে সাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই সামনের আলো (হেডলাইট) এবং পেছনের আলো (টেইললাইট) বা রিফ্লেক্টর ব্যবহার করতে হবে। অন্ধকারে আপনাকে যেন সবাই দেখতে পায়, সেটা নিশ্চিত করাটা খুবই জরুরি। আমার মনে আছে, একবার আমি টেইললাইট ছাড়া রাতে সাইকেল চালাচ্ছিলাম, একজন পুলিশ অফিসার আমাকে থামিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে একটি রিফ্লেক্টর লাগানোর কথা বলেছিলেন।আর শাস্তি?
নিয়ম ভাঙলে প্রথমে আপনাকে সতর্ক করা হতে পারে, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে জরিমানা হতে পারে, যার পরিমাণ বেশ ভালোই। কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বারবার নিয়ম ভাঙলে বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটালে আপনাকে “সাইকেল চালকের নিরাপত্তা কোর্স” নিতে বাধ্য করা হতে পারে। এমনকি যদি আপনি এই কোর্স না নেন, তাহলে পাঁচ হাজার ইয়েন পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জাপানিজরা নিয়ম ভাঙার বিষয়ে একেবারেই আপস করে না, তাই সেরা উপায় হলো সব নিয়ম মেনে চলা। এতে আপনার ভ্রমণ যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি পকেটও সুরক্ষিত থাকবে!
প্র: জাপানের রাস্তায় নিরাপদে চলাচলের জন্য ড্রাইভার, সাইক্লিস্ট এবং পথচারী সবারই আর কী কী বিশেষ টিপস বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার?
উ: জাপানের রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করাটা যতটা আনন্দদায়ক, ঠিক ততটাই নিয়ম মেনে চলার ওপর নির্ভরশীল। শুধু ড্রাইভার বা সাইক্লিস্ট নয়, পথচারী হিসেবেও কিন্তু আমাদের কিছু জিনিস অবশ্যই জানতে হবে। আমার মতে, জাপানের এই সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার পেছনে সেখানকার মানুষের আইন মানার প্রবণতাটাই প্রধান।প্রথমত, সবার জন্য সবচেয়ে বড় টিপস হলো – সবসময় সচেতন থাকা। আপনি গাড়ি চালান, সাইকেল চালান বা হেঁটে যান, আপনার আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকাটা জরুরি। বিশেষ করে জাপানের শহরে গাড়ি চালানোর সময় রাস্তাগুলো বেশ সরু হতে পারে এবং অনেক পথচারী বা সাইক্লিস্ট থাকতে পারে। তাই হর্ন বাজানোর চেয়ে ধীরে চালানো এবং সতর্ক থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।দ্বিতীয়ত, “ডানদিক দিয়ে হাঁটা” এই ধারণাটা আমাদের দেশের সঙ্গে পুরোপুরি বিপরীত। জাপানে কিন্তু ফুটপাতে বা স্টেশনগুলোতে মানুষ সাধারণত বাম দিক দিয়ে হাঁটে। এটা আমার নিজের প্রথম দিকে খুব কনফিউজিং লাগতো। ট্রেন স্টেশনগুলোতে বা বড় শপিং মলে দেখবেন সবাই বাম দিকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এই ছোট্ট বিষয়টি জেনে রাখলে ভিড়ের মধ্যে আপনার ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং আপনিও অন্যদের মতো সুশৃঙ্খলভাবে চলতে পারবেন।তৃতীয়ত, শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন। জাপানে ছোট বাচ্চারা প্রায়ই দল বেঁধে স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে যায়। তারা অনেক সময় নিজেদের মতো করে চলতে ভালোবাসে। তাই কোনো স্কুল এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বা বাচ্চাদের দেখলে গাড়ির গতি কমিয়ে দেওয়া উচিত। আমার চোখে পড়েছে, জাপানিজরা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে খুব সংবেদনশীল।চতুর্থত, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকুন। যদি দুর্ভাগ্যবশত কোনো ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেও যায়, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। প্রথমে গাড়ির আলো জ্বালিয়ে অন্যদের সতর্ক করুন এবং যদি সম্ভব হয়, ট্রাফিক বা পুলিশকে খবর দিন। জাপানের পুলিশ ব্যবস্থা খুবই দ্রুত এবং পেশাদার। ছোট ছোট ধাক্কা বা আঁচড়ের ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে চলা এবং পুলিশের কাছে রিপোর্ট করাটা ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়ানোর জন্য ভালো।পঞ্চমত, জাপানিজরা ইশারার মাধ্যমেও অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়। ড্রাইভাররা অনেক সময় হাত উঁচু করে ধন্যবাদ জানায় যখন আপনি তাদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দেন। এটা একটা খুব সুন্দর অভ্যাস যা আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব উপভোগ করি। আপনিও একইভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন, এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে।এই টিপসগুলো মেনে চললে জাপানে আপনার চলাচল আরও বেশি নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক হবে, আমার বিশ্বাস!
এই অভিজ্ঞতাগুলো আপনার জাপান ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






