জাপানে প্রবাসীদের অজানা জগৎ: সেরা কমিউনিটি খুঁজে নেওয়ার কৌশল

webmaster

일본 내 외국인 커뮤니티 정보 - **Prompt:** A vibrant and cheerful scene at a Japanese cherry blossom (Sakura) festival. Focus on a ...

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আজ আপনাদের সাথে এমন এক দেশ নিয়ে কথা বলবো, যার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেরি ফুল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর এক দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজের ছবি – হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, আমি জাপানের কথাই বলছি। আজকাল দেখছি আমাদের বহু বাঙালি ভাই-বোন ও অন্যান্য দেশের মানুষজন জাপানে যাচ্ছেন নতুন জীবনের খোঁজে, পড়াশোনার জন্য কিংবা চমৎকার সব কাজের সুযোগের সন্ধানে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, জাপানে বিদেশীদের জীবন এক দারুণ রোমাঞ্চকর জার্নি, যেখানে যেমন রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ, তেমনই আছে কিছু নতুনত্বের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও।অনেকেই ভাবেন জাপান মানেই শুধু কাজ আর কড়া নিয়মের বেড়াজাল। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এখানকার প্রবাসী কমিউনিটিগুলো কতটা প্রাণবন্ত, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা মুশকিল। তবে সম্প্রতি জাপানের সরকার এবং সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিদেশীদের প্রতি মনোভাব নিয়ে কিছু আলোচনা চলছে, বিশেষ করে দেশের অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিদেশীদের ভূমিকা নিয়ে। ২০২৫ সাল এবং তার পরেও জাপানে বিদেশীদের জন্য কী ধরনের সুযোগ আসছে, কিংবা কোন দিকগুলোতে একটু বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন, তা জানাটা কিন্তু খুবই জরুরি। আমরা সবাই চাই জাপানের এই সুন্দর পরিবেশে নিজেদের একটি শক্তপোক্ত জায়গা তৈরি করতে, আর তাই সেখানকার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি আর কমিউনিটি সম্পর্কে সব তথ্য হাতের মুঠোয় থাকা দরকার।চলুন, জাপানে বিদেশীদের জীবনযাত্রার আরও গভীরে ডুব দিই এবং খুঁটিনাটি সব জেনে নিই!

일본 내 외국인 커뮤니티 정보 관련 이미지 1

জাপানে আসার আগে প্রস্তুতি: কী কী জানতে হবে?

ভিসা প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জাপানে আসার স্বপ্ন দেখার আগে সবচেয়ে প্রথম যে ধাপটা আসে, সেটা হলো ভিসা। সত্যি বলতে কি, এই ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটা বেশ সময়সাপেক্ষ আর কিছুটা জটিল হতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সঠিক কাগজপত্র আর নির্ভুল তথ্য জমা দেওয়াটা ভীষণ জরুরি। সাধারণত, পড়াশোনা, কাজ বা দীর্ঘমেয়াদী থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসা লাগে। যেমন, যদি আপনি স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আসেন, তাহলে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এনরোলমেন্ট লেটার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পনসরশিপ লেটার (যদি থাকে) আর পাসপোর্টের মতো কিছু মৌলিক কাগজ লাগবেই। আর যারা ওয়ার্ক ভিসায় আসছেন, তাদের জন্য কোম্পানির অফার লেটার, সার্টিফিকেট অফ এলিজিবিলিটি (COE) এবং পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত কাগজপত্র অপরিহার্য। প্রতিটি ভিসার জন্যই আলাদা আলাদা নিয়মকানুন থাকে, তাই জাপানি এম্বাসি বা কনস্যুলেটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে একদম সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম, একটা ছোট তথ্য ভুল হওয়ার কারণে ফাইল ফিরে এসেছিল। তাই প্রতিটা ডকুমেন্ট বারবার খুঁটিয়ে দেখতে হবে, যেন কোনো ভুল না থাকে। তাড়াহুড়ো না করে, একটু সময় নিয়ে সবটা গুছিয়ে আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ভাষার বাধা এবং প্রাথমিক জাপানি ভাষা শেখার গুরুত্ব

জাপানে এসে যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল, সেটা হলো ভাষা। হ্যাঁ বন্ধুরা, সত্যি বলছি! জাপানিজ ভাষা না জানা থাকলে এখানকার দৈনন্দিন জীবনযাত্রাটা একটু কঠিনই মনে হতে পারে। যদিও বড় শহরগুলোতে অনেকে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন, তবে স্থানীয়দের সাথে মিশতে বা সরকারি কাজকর্মে অংশগ্রহণ করতে জাপানিজ ভাষা জানাটা একটা দারুণ প্লাস পয়েন্ট। আমি নিজে আসার আগে সামান্য কিছু জাপানি ভাষা শিখে এসেছিলাম, যার ফলে প্রথম দিকে কিছুটা সুবিধা হয়েছিল। হিরাংগানা এবং কাতাকানা শেখাটা অত্যাবশ্যক, কারণ এখানকার সাইনবোর্ড, দোকানের নাম, এমনকি ফরম পূরণের ক্ষেত্রেও এই অক্ষরগুলো ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, জাপানিজদের সাথে কথা বলার সময় তাদের সংস্কৃতি ও শ্রদ্ধাবোধের ধরনটাও শেখা উচিত। যেমন, ‘সুমিমাসেন’ (দুঃখিত/ক্ষমা করবেন) বা ‘আরোগাতো গোজাইমাস’ (ধন্যবাদ) – এই ছোট ছোট শব্দগুলো ব্যবহার করলে স্থানীয়রা খুশি হন এবং আপনার প্রতি তাদের মনোভাব আরও ইতিবাচক হয়। আমার মনে হয়, জাপানে আসার আগে যদি আপনি অন্তত দৈনিক ব্যবহার্য কিছু বাক্য শিখে আসতে পারেন, তাহলে আপনার প্রবাস জীবনটা অনেক মসৃণ হয়ে উঠবে। এটা শুধুমাত্র যোগাযোগের জন্য নয়, এখানকার সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতেও আপনাকে সাহায্য করবে।

জাপানের কর্মজীবন: সুযোগ আর চ্যালেঞ্জ

Advertisement

কোন খাতে কাজের সুযোগ বেশি?

জাপানে আজকাল কাজের সুযোগের কোনো অভাব নেই, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট খাতে। এখানকার জনসংখ্যা দিন দিন কমছে বলে বিভিন্ন শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। আমার মতো যারা তথ্য প্রযুক্তি (IT) বা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের, তাদের জন্য জাপানে বেশ ভালো সুযোগ আছে। সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডেটা অ্যানালিস্ট, এআই (AI) ইঞ্জিনিয়ার – এই ধরনের পজিশনগুলোতে বিদেশীদের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। এছাড়াও, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং এবং প্রবীণদের যত্ন (caregiving) খাতেও কাজের সুযোগের অভাব নেই। জাপানের সরকার এই খাতগুলোতে বিদেশীদের নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা আমাদের মতো প্রবাসীদের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। পর্যটন শিল্পেও প্রচুর কাজ আছে, বিশেষ করে হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুর গাইড বা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তবে, এসব ক্ষেত্রে জাপানি ভাষা জানাটা প্রায় বাধ্যতামূলক। আমি দেখেছি, অনেকে আসার আগে শুধু ইংরেজিতেই ভালো ছিলেন, কিন্তু জাপানি ভাষা শেখার পর তাদের কাজের সুযোগ অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাই, যদি আপনি জাপানে এসে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে নির্দিষ্ট একটি দক্ষতা এবং তার সাথে জাপানি ভাষা শেখার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

কাজের পরিবেশ এবং সংস্কৃতি

জাপানের কাজের পরিবেশ নিয়ে আমি নিজে অনেক কিছু শিখেছি। এখানকার কর্পোরেট সংস্কৃতি বেশ ভিন্ন এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ। সময়ানুবর্তিতা এবং নিষ্ঠা এখানে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। অফিসে সময়মতো পৌঁছানো, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখানো – এগুলো এখানকার কাজের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি যখন প্রথম এখানে কাজ শুরু করি, তখন মিটিংগুলোতে একটু অবাকই হয়েছিলাম। কারণ, এখানে সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন এবং প্রশ্ন করার আগে অনুমতি নেন। Hierarchy বা পদমর্যাদার বিষয়টি এখানে খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। আমার মনে আছে, প্রথমদিকে আমার বসকে ‘নাম ছাড়া’ ডাকার সাহস পাইনি, সবসময় ‘সেনসেই’ বা ‘সান’ ব্যবহার করতাম। যদিও এটা আমাদের দেশের থেকে কিছুটা আলাদা, তবে একবার মানিয়ে নিতে পারলে এর একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা জাপানের কর্ম সংস্কৃতির একটা অংশ, তাই কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও অনেক বেশি। কিন্তু কাজের বাইরেও সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এখানে খুব জরুরি, যেমন কাজের পর সহকর্মীদের সাথে ডিনারে যাওয়া বা ‘নমুনিকা ইকু’ (পান করতে যাওয়া) সংস্কৃতিও বেশ প্রচলিত। এই ছোট ছোট সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলে টিমের সাথে আপনার বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

দৈনন্দিন জীবনযাত্রা: খরচাপাতি আর বাসস্থান

মাসিক খরচাপাতির একটি ধারণা

জাপানে থাকার খরচ কেমন হবে, এটা নিয়ে অনেকেরই কৌতুহল থাকে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, জাপানে জীবনযাত্রার মান বেশ উন্নত হলেও, খরচাপাতি কিছুটা বেশি। তবে শহরভেদে এই খরচের পরিমাণ ভিন্ন হয়। টোকিও, ওসাকা, নাগোয়া – এই বড় শহরগুলোতে খরচ একটু বেশি, বিশেষ করে থাকার খরচ। একজন অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য টোকিওতে মাসিক প্রায় ১,০০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ ইয়েন খরচ হতে পারে, যার মধ্যে বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ অন্তর্ভুক্ত। আমার মনে আছে, প্রথম দিকে যখন আমি টোকিওতে এসেছিলাম, তখন মাসের মাঝামাঝিতেই বাজেট ফুরিয়ে যেত!

পরে আমি শিখেছি কীভাবে খরচ কমাতে হয়। যেমন, বাইরে রেস্টুরেন্টে না খেয়ে বাসায় রান্না করলে খরচ অনেক কমে যায়। সুপারমার্কেট থেকে যখন অফার থাকে তখন একসাথে অনেক কিছু কিনে রাখতাম। জাপানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট খুব উন্নত এবং নিরাপদ হলেও, প্রতিদিন যাতায়াত খরচটাও একটা বড় অংশ। তাই, কাজ বা পড়াশোনার জায়গার কাছাকাছি বাসা নিলে যাতায়াত খরচ অনেকটা বাঁচানো যায়। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির বিলও মাসিক খরচের একটি অংশ। একটা জিনিস মনে রাখা দরকার, জাপানে অনেক ছোট ছোট জিনিসও বেশ দামি মনে হতে পারে, তাই বুঝে শুনে কেনাকাটা করাটা খুব জরুরি।

আবাসন খোঁজা এবং ভাড়ার প্রক্রিয়া

জাপানে বাসস্থান খোঁজাটা বিদেশীদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার যখন প্রথমবার বাসা খুঁজতে হয়েছিল, তখন অনেক এজেন্সি ঘুরেছি, অনেক নিয়মকানুন বুঝতে হয়েছে। এখানকার আবাসন বাজার আমাদের দেশের থেকে বেশ ভিন্ন। বেশিরভাগ বাড়ির মালিক বিদেশীদের ভাড়া দিতে দ্বিধা করেন, বিশেষ করে যদি আপনার কোনো জাপানি গ্যারান্টার না থাকে। তবে এখন অনেক রিয়েল এস্টেট এজেন্সি আছে যারা বিদেশীদের জন্য বিশেষভাবে কাজ করে। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় কিছু প্রাথমিক খরচ থাকে, যেমন – সিকিউরিটি ডিপোজিট (শিকিকিন), কি মানি (রেইকিন), এজেন্সির ফি এবং প্রথম মাসের ভাড়া। এই প্রাথমিক খরচগুলো একসাথে অনেক বড় একটা অংকের হতে পারে, যা প্রায় ৪-৫ মাসের ভাড়ার সমান। তাই আগে থেকে এই অর্থের জন্য প্রস্তুত থাকা ভালো। আমার মনে আছে, কি মানি যখন দিতে হয়েছিল, তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম, কারণ এটা ফেরত পাওয়া যায় না!

ফ্ল্যাট সাধারণত ছোট হয় এবং বেশিরভাগই আনফার্নিশড থাকে। তাই, বিছানা, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন – এই জিনিসগুলো নিজের খরচে কিনতে হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির জন্য আলাদা করে চুক্তি করতে হয়। ইন্টারনেট সংযোগের জন্যও একই কথা। একটা বিষয় আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে, এখানকার বাড়িগুলো খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন।

খরচের খাত মাসিক আনুমানিক খরচ (টোকিওতে) টিপস
বাসা ভাড়া (একজনের জন্য) ৫০,০০০ – ৮০,০০০ ইয়েন কাজের বা পড়াশোনার জায়গার কাছাকাছি বাসা খুঁজুন। শেয়ার হাউস একটি ভালো বিকল্প।
খাবার-দাবার ২৫,০০০ – ৪০,০০০ ইয়েন সুপারমার্কেট থেকে কেনাকাটা করে নিজে রান্না করুন। অফার থাকলে স্টক করে রাখুন।
যাতায়াত ৫,০০০ – ১৫,০০০ ইয়েন মাসিক পাস কিনুন। সাইকেল ব্যবহার করুন কাছাকাছি যাতায়াতের জন্য।
ইউটিলিটি বিল (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) ৮,০০০ – ১২,০০০ ইয়েন বিদ্যুৎ এবং পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন।
মোবাইল ও ইন্টারনেট ৩,০০০ – ৫,০০০ ইয়েন সস্তা প্ল্যান এবং ওয়াইফাই ব্যবহার করুন।
অন্যান্য (বিনোদন, ব্যক্তিগত) ১০,০০০ – ২০,০০০ ইয়েন বাজেট তৈরি করে চলুন, অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন।

জাপানি সংস্কৃতি আর প্রবাসীদের মেলবন্ধন

স্থানীয়দের সাথে সম্পর্ক গড়া

জাপানে এসে আমি যা শিখেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয়দের সাথে সম্পর্ক গড়ার কৌশল। প্রথম দিকে আমার একটু ভয় ভয় লাগতো, কারণ মনে হতো জাপানিরা হয়তো বিদেশীদের সাথে খুব একটা মিশতে চান না। কিন্তু আমার ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। জাপানিরা ভীষণ বিনয়ী এবং ভদ্র। তারা সরাসরি কিছু না বললেও, ছোট ছোট কাজে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকেন। যদি আপনি তাদের ভাষা শেখার চেষ্টা করেন, তাহলে দেখবেন তারা আপনাকে আরও বেশি করে আপন করে নিতে চাইছেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি যখন স্থানীয় ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করা শুরু করলাম, তখন অনেক নতুন বন্ধুর সাথে পরিচয় হলো। স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্লাস বা ভাষা বিনিময়ের সুযোগ থাকে, যেখানে আপনি জাপানিদের সাথে সরাসরি মেশার সুযোগ পাবেন। কাজের জায়গায় সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত লাঞ্চ বা ডিনারে যাওয়াও সম্পর্ক গড়ার একটা দারুণ উপায়। আমি দেখেছি, যখন আমি তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলি বা তাদের রীতিনীতি মেনে চলি, তখন তারা খুব খুশি হন। এই ছোট ছোট জিনিসগুলো আসলে প্রবাস জীবনে নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক সাহায্য করে।

উৎসব, খাবার এবং সামাজিক রীতিনীতি

জাপানি সংস্কৃতি এতটাই সমৃদ্ধ যে, প্রবাসীরা এখানে এসে এক নতুন জগতের সন্ধান পায়। এখানকার উৎসবগুলো আমাকে সব সময় মুগ্ধ করে। সাকুরা উৎসব (চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল), ওবোন উৎসব, তেনজিন মাৎসুরি – এমন অসংখ্য উৎসব আছে যা এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার অংশ। আমার মনে আছে, সাকুরা ফেস্টিভ্যালে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল যেন একটা ছবির মধ্যে এসে পড়েছি!

হাজার হাজার মানুষ চেরি ফুলের নিচে পিকনিক করছে, ছবি তুলছে – এক অসাধারণ দৃশ্য। খাবারের দিক থেকেও জাপান বিশ্বের অন্যতম সেরা। সুশি, রামেন, টেম্পুরা, ওকনোমিয়াকি – প্রতিটি খাবারেরই নিজস্ব স্বাদ আর গল্প আছে। আমার নিজের প্রিয় হলো তাকোয়াকি, যেটা ওসাকার এক ঐতিহ্যবাহী খাবার। জাপানিরা খাবার পরিবেশন এবং খাওয়ার রীতিনীতি সম্পর্কে বেশ সচেতন। যেমন, chopsticks (হাঁসুলি) ব্যবহার করা, খাওয়ার আগে ‘ইতাদাকিমাসু’ বলা এবং খাবার শেষ হলে ‘গোচিসোসামা দেশিতা’ বলা – এই ছোট ছোট রীতিনীতিগুলো এখানকার সংস্কৃতির অংশ। এছাড়া, জাপানিদের সামাজিক রীতিনীতিগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, কারও বাড়িতে ঢুকলে জুতো খুলে রাখা, উপহার বিনিময় করা, এবং সব সময় বিনয়ী ভাষা ব্যবহার করা। এই বিষয়গুলো জেনে রাখলে আপনি খুব সহজেই এখানকার মানুষের সাথে মিশে যেতে পারবেন।

Advertisement

স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা: বিদেশীদের জন্য কেমন?

স্বাস্থ্যবীমা এবং চিকিৎসা পরিষেবা

জাপানে স্বাস্থ্যসেবার মান বিশ্বমানের, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বিদেশীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা এবং চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুব জরুরি। জাপানে বসবাসকারী সব নাগরিক এবং বিদেশীদের জন্য ন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স (Kokumin Kenko Hoken) থাকা বাধ্যতামূলক। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ইন্স্যুরেন্স থাকার কারণে আমি যখন একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, তখন চিকিৎসার জন্য খুব বেশি খরচ হয়নি। ইন্স্যুরেন্স কভারেজের কারণে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭০% সরকার বহন করে, বাকি ৩০% রোগীকে দিতে হয়। যদি আপনার কোম্পানির নিজস্ব স্বাস্থ্যবীমা থাকে, তাহলে হয়তো ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হবে না। এখানকার হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ চিকিৎসক থাকেন। তবে একটা ছোট চ্যালেঞ্জ হলো, সব ডাক্তার ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। তাই, যদি আপনি জাপানি ভাষা না জানেন, তাহলে একজন দোভাষী নিয়ে যাওয়া বা এমন ক্লিনিক খুঁজে বের করা ভালো যেখানে ইংরেজিভাষী ডাক্তার আছেন। আমার মনে আছে, একবার দাঁতে ব্যথা নিয়ে গিয়েছিলাম, তখন গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম!

তাই আগে থেকে একটু খোঁজখবর নিয়ে রাখাটা ভালো।

জাপানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি

জাপান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি নিজে মধ্যরাতে নিশ্চিন্তে রাস্তায় হেঁটেছি, কখনও কোনো ভয় লাগেনি। এখানকার অপরাধের হার খুবই কম, যা বিদেশীদের জন্য একটা বড় স্বস্তির বিষয়। আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো যখন দেখতাম, মানুষজন তাদের মানিব্যাগ বা মোবাইল ফোন রেস্টুরেন্টের টেবিলে রেখে বাথরুমে যাচ্ছে, আর ফিরে এসে দেখছে সবকিছু ঠিকঠাক আছে!

এটা এখানকার মানুষের সততা এবং নিরাপত্তার এক দারুণ উদাহরণ। তবে, জরুরি পরিস্থিতি যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত থাকাটাও জরুরি। জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, তাই ভূমিকম্প হলে কী করতে হবে, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। প্রত্যেক বাড়িতে ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, তার একটি নির্দেশনা থাকে। এছাড়া, সুনামির জন্যও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা থাকে। আমার মনে আছে, প্রথমবার যখন একটা বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, তখন বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখানকার বিল্ডিংগুলো এতটাই মজবুত যে তেমন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। মোবাইল ফোনে একটি জরুরি অ্যালার্ট সিস্টেম থাকে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাঠায়। তাই, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন, সেই সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

জাপানে প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ: ২০২৫ এবং তার পরের চিত্র

Advertisement

সরকারি নীতি ও অভিবাসন আইন পরিবর্তন

일본 내 외국인 커뮤니티 정보 관련 이미지 2
জাপানের সরকার দিন দিন বিদেশীদের প্রতি আরও বেশি উদার হচ্ছে, বিশেষ করে দেশের শ্রমশক্তি ঘাটতি মেটানোর জন্য। ২০২৫ সাল এবং তার পরের দিনগুলোতে অভিবাসন আইনে আরও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, যা আমাদের মতো প্রবাসীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, জাপান সরকার দক্ষ শ্রমিক এবং উচ্চ শিক্ষিত বিদেশীদের আকৃষ্ট করতে আরও নতুন নতুন ভিসা ক্যাটাগরি চালু করতে পারে। স্পেসিফিক স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) ভিসার মতো উদ্যোগগুলো এরই উদাহরণ, যা নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিদেশীদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়াও, জাপানিজ ভাষা শিক্ষার ওপর সরকার আরও বেশি জোর দিচ্ছে এবং বিদেশীদের জন্য ভাষা শেখার সুবিধাগুলো বাড়াচ্ছে। এখানকার জনসংখ্যা যেহেতু কমছে, তাই দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও নীতিগুলো আরও নমনীয় হতে পারে। আমি নিজে দেখেছি, কিভাবে ধীরে ধীরে জাপান বিদেশীদের জন্য আরও welcoming হয়ে উঠছে। তবে, এই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য আমাদের নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব আছে, যেমন জাপানি ভাষা শেখা, এখানকার সংস্কৃতিকে সম্মান করা এবং আইন মেনে চলা।

প্রবাসীদের জন্য নতুন দিগন্ত ও টিকে থাকার কৌশল

জাপান এখন প্রবাসীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। শুধু কাজের সুযোগ নয়, এখানে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং নতুন ব্যবসা শুরু করারও দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। আমার মতো যারা জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, তাদের জন্য এখন অনেক ভালো সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এখানকার অর্থনীতিতে বিদেশীদের অবদানকে সরকার এখন আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে, এই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমত, জাপানি ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র কাজের জন্য নয়, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মানিয়ে নিতে এবং স্থানীয়দের সাথে সম্পর্ক গড়তেও সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং এখানকার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করা। ক্রমাগত নতুন কিছু শেখা এবং আপডেটেড থাকাটা জরুরি। তৃতীয়ত, স্থানীয় কমিউনিটির সাথে নিজেকে যুক্ত রাখা। বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা, ভলান্টিয়ারিং করা বা স্থানীয় ক্লাবগুলোতে যোগ দিলে নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে এবং আপনার সামাজিক নেটওয়ার্ক বাড়বে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই জাপানে আপনার প্রবাস জীবনকে আরও সহজ এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে। মনে রাখবেন, জাপানে টিকে থাকার জন্য শুধু কাজ করাই যথেষ্ট নয়, এখানকার জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সমাজের অংশ হওয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমার চোখে জাপান: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আর প্রাপ্তি

সত্যি কথা বলতে কি, জাপানে আসার পর আমি অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। প্রথম দিকে ভাষা বুঝতে না পারা, খাবার হজম না হওয়া, কিংবা এখানকার ভিন্ন সংস্কৃতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়েছে। আমার মনে আছে, প্রথম কয়েক মাস তো রাতদিন হোমসিকনেসে ভুগেছি!

কিন্তু আস্তে আস্তে যখন এখানকার মানুষের সাথে মিশতে শুরু করলাম, জাপানিজ ভাষা শেখার চেষ্টা করলাম, তখন সব চ্যালেঞ্জই যেন সহজ হয়ে গেল। জাপানের মানুষজন অসম্ভব বিনয়ী আর সহযোগী। যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছি, অপরিচিতরাও এগিয়ে এসেছেন সাহায্য করতে। এই দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো এখানকার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা আর মানুষের সততা। এমন এক সমাজে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে করি। আমার মনে হয়, যেকোনো চ্যালেঞ্জ আসলে এক নতুন সুযোগ নিয়ে আসে। জাপানে এসে আমি শিখেছি ধৈর্য ধরতে, নতুন কিছু শিখতে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক থাকতে। এই দেশ আমাকে শুধু একটি নতুন কর্মজীবনই দেয়নি, বরং একজন মানুষ হিসেবে আমাকে আরও পরিণত করেছে।

জাপানের জীবন থেকে শেখা কিছু অমূল্য পাঠ

জাপানে আমার এই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে আমি অনেক অমূল্য পাঠ শিখেছি, যা আমার বাকি জীবনেও কাজে দেবে। সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা হলো – শৃঙ্খলা এবং নিষ্ঠার গুরুত্ব। এখানকার মানুষজন তাদের কাজ আর দায়িত্বের প্রতি এতটাই নিষ্ঠাবান যে, এটা আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করে। সময়ানুবর্তিতা এখানকার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমি নিজেও এখন কঠোরভাবে মেনে চলার চেষ্টা করি। এছাড়াও, জাপানিদের ‘ওমোতেনাশি’ (অতিথেয়তা) আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা কোনো প্রতিদানের আশা না করে মানুষের সেবা করেন, যেটা সত্যিই বিরল। আমার মনে আছে, একবার ট্রেনে আমার একটা জিনিস পড়ে গিয়েছিল, একজন অপরিচিত ব্যক্তি সেটা খুঁজে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন!

এমন সততা আমি খুব কম দেখেছি। এখানকার পরিবেশ সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সম্মান জানানোর প্রবণতাও আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে। জাপানের জীবন আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, কিভাবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয় এবং কিভাবে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। এই দেশ শুধু আমার কর্মজীবনেই পরিবর্তন আনেনি, আমার জীবনের প্রতিটা দিককেই সমৃদ্ধ করেছে। তাই, যারা জাপানে আসার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আমার একটাই বার্তা – চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করুন, শিখতে থাকুন এবং এই সুন্দর দেশের সংস্কৃতিকে মন খুলে উপভোগ করুন।

글을마치며

আমার এই দীর্ঘ জাপান যাত্রা, আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা অভিজ্ঞতা আমার জীবনে নতুন অর্থ এনে দিয়েছে। এখানে এসে শুধু নতুন একটি সংস্কৃতিই দেখিনি, বরং নিজেকে নতুন করে চিনতে শিখেছি। জাপানের জীবন আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়, কিভাবে ছোট ছোট বিষয়েও আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, আর কিভাবে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। আশা করি আমার এই অভিজ্ঞতাগুলো আপনাদের জাপানে আসার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে রাখবেন, সঠিক প্রস্তুতি আর ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেলে কোনো বাধাই আপনাকে আটকাতে পারবে না।

Advertisement

알아두면 쓸모 있는 정보

জাপানে আসার আগে কিছু তথ্য জেনে রাখা আপনার যাত্রা অনেকটাই সহজ করে দেবে:

১. ভিসা প্রক্রিয়া বেশ জটিল হতে পারে, তাই জাপানি এম্বাসির ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সর্বশেষ নিয়মকানুনগুলো খুব ভালোভাবে যাচাই করে নিন। সময় নিয়ে সব তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করাটা ভীষণ জরুরি।

২. ভাষার বাধা মোকাবেলা করার জন্য প্রাথমিক জাপানি ভাষা শেখাটা অত্যাবশ্যক। হিরাংগানা, কাতাকানা এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য কিছু বাক্য শিখে এলে এখানকার মানুষের সাথে মিশতে এবং জীবনযাত্রা সহজ করতে পারবেন।

৩. জাপানের কর্মসংস্কৃতি ভীষণ শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সময়ানুবর্তিতার উপর জোর দেয়। এখানকার সামাজিক রীতিনীতি, যেমন সহকর্মীদের সাথে সম্মানজনক আচরণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত থাকুন।

৪. মাসিক খরচাপাতির একটি বাস্তবসম্মত ধারণা নিয়ে আসুন। টোকিওর মতো বড় শহরগুলোতে বাসা ভাড়া এবং জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক বেশি। খরচ কমাতে নিজে রান্না করা এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সুবিধা গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. জাপানে স্বাস্থ্যবীমা থাকা বাধ্যতামূলক এবং এটি চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখা এবং জরুরি অ্যালার্ট সিস্টেম সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত।

중요 사항 정리

জাপানে আসার আগে এবং এখানে এসে আপনার প্রবাস জীবনকে মসৃণ করতে কিছু বিষয় সবসময় মনে রাখা উচিত। প্রথমত, ভিসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করুন এবং কোনো ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। জাপানি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান আপনাকে এখানকার দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্রে দারুণভাবে সাহায্য করবে, তাই এটি শেখার উপর জোর দিন। এখানকার কর্মসংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি ভিন্ন হতে পারে, তাই মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন এবং স্থানীয়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হন; বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার খরচ বেশি হতে পারে, তাই বাজেটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যবীমা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে সময় দিন, স্থানীয়দের সাথে মিশুন এবং এই সুন্দর সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। ধৈর্য, শেখার আগ্রহ এবং একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আপনাকে জাপানে সফল হতে সাহায্য করবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: জাপানে বিদেশীদের জন্য কাজের সুযোগ কেমন? কী ধরনের কাজ সহজে পাওয়া যায় এবং কিভাবে আবেদন করতে হয়?

উ: জাপানে বিদেশীদের জন্য কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট সেক্টরে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এখানে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইংরেজি শিক্ষকতা, কেয়ারগিভিং (বিশেষ করে বয়স্কদের সেবা), হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা হসপিটালিটি সেক্টরে কাজের চাহিদা বেশ ভালো। আপনি যদি জাপানি ভাষা কিছুটা জানেন, তাহলে আপনার সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে। তবে ভাষা না জানলেও কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে বা নির্দিষ্ট কিছু রোল-এ কাজ পাওয়া সম্ভব, যেমন- ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে।কাজের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আমি সাধারণত অনলাইন পোর্টালগুলোকেই বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করি। LinkedIn, Indeed Japan, GaijinPot Jobs, Daijob.com-এর মতো ওয়েবসাইটগুলোতে নিয়মিত চোখ রাখলে ভালো হয়। এছাড়া, জাপানের কোম্পানিগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ক্যারিয়ার সেকশন থাকে। আমার অনেক বন্ধু জাপানে এসে প্রথমে পার্ট-টাইম কাজ (যেমন: কনভিনিয়েন্স স্টোর বা রেস্টুরেন্টে) করে নিজেদের খরচ জুগিয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পরে ফুল-টাইম ভালো কাজ খুঁজে পেয়েছে। জাপানে নেটওয়ার্কিং খুব জরুরি; বিভিন্ন এক্সপাট ইভেন্ট বা অনলাইনে প্রফেশনাল গ্রুপগুলোতে যোগ দিলে নতুন সুযোগের সন্ধান পাওয়া যায়। আপনার রেজিউমে (CV) জাপানি ফরম্যাট অনুযায়ী তৈরি করা এবং কভার লেটারে আপনার জাপানে কাজ করার আগ্রহ পরিষ্কারভাবে তুলে ধরাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য ধরে লেগে থাকাটা এখানে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

প্র: জাপানে জীবনযাত্রার খরচ কেমন? বিদেশীদের জন্য দৈনন্দিন জীবনে মানিয়ে নেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং এবং এর জন্য কিছু টিপস কি দিতে পারেন?

উ: জাপানে জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। সত্যি বলতে কি, টোকিও বা ওসাকার মতো বড় শহরগুলোতে খরচ কিছুটা বেশি। বিশেষ করে ভাড়াটা অনেক বড় একটা অংশ নেয়। তবে ছোট শহরগুলোতে বা শহরতলি এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে থাকা যায়। আমার যখন প্রথম জাপানে আসি, তখন খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেয়েছিলাম!
তবে ধীরে ধীরে কিছু কৌশল শিখে গেছি।প্রথমেই আসে থাকার খরচ। শেয়ার হাউস বা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করলে খরচ কিছুটা কমে। খাওয়ার খরচের ক্ষেত্রে, বাইরে রেস্টুরেন্টে না খেয়ে যদি নিজেই বাজার করে রান্না করেন, তাহলে অনেক সাশ্রয় হবে। এখানকার সুপারমার্কেটগুলোতে সস্তায় তাজা সবজি, মাছ ও মাংস পাওয়া যায়, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ডিসকাউন্ট থাকে। যাতায়াতের জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট দারুণ কার্যকর; তবে মান্থলি পাস নিলে আরও সাশ্রয়ী হয়।দৈনন্দিন জীবনে মানিয়ে নেওয়াটা প্রথম দিকে একটু চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। এখানকার নিয়মানুবর্তিতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কড়াকড়ি নিয়ম (যেমন- ময়লা আলাদা করা), এবং সামাজিক শিষ্টাচার কিছুটা ভিন্ন। তবে জাপানিরা ভীষণ সাহায্যপ্রবণ। আমার মনে আছে, প্রথম দিকে আমি যখন ময়লা ফেলার নিয়ম বুঝতে পারছিলাম না, তখন প্রতিবেশী একজন বয়স্ক জাপানি মহিলা আমাকে হাতে ধরে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। কিছু সাধারণ জাপানি শব্দ ও বাক্য শিখে নিলে দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হয়ে যায় এবং স্থানীয়দের সাথে আপনার সম্পর্কও ভালো হবে। চেষ্টা করুন স্থানীয় উৎসবগুলোতে অংশ নিতে, এতে এখানকার সংস্কৃতিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

প্র: জাপানের সংস্কৃতিতে বিদেশীরা কিভাবে সহজে মিশে যেতে পারে? প্রবাসী কমিউনিটির ভূমিকা কেমন এবং কীভাবে এতে যুক্ত হওয়া যায়?

উ: জাপানের সংস্কৃতিতে মিশে যাওয়াটা এক চমৎকার অভিজ্ঞতা, তবে এর জন্য একটু খোলা মন আর শেখার আগ্রহ থাকা চাই। জাপানিরা খুব বিনয়ী এবং অতিথিপরায়ণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি যে, আপনি যদি তাদের সংস্কৃতি ও প্রথার প্রতি শ্রদ্ধা দেখান, তাহলে তারা আপনাকে খুব সহজে আপন করে নেবে। যেমন, অভিবাদন জানানোর সময় মাথা নিচু করে (ওজিগি) সম্মান জানানো, জুতা খুলে ঘরে প্রবেশ করা, বা খাবারের আগে ‘ইতাদাকিমাসু’ বলা—এই ছোট ছোট বিষয়গুলো তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।প্রথম দিকে ভাষা একটা বড় বাধা মনে হতে পারে, কিন্তু আমি দেখেছি যে, অনেকেই জাপানি ভাষা শেখার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা অনেক উৎসাহিত হয় এবং সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। জাপানের বিভিন্ন প্রদেশে স্থানীয় উৎসব (মাতসুরি) হয়, সেগুলোতে অংশ নিলে সেখানকার মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পাওয়া যায়।প্রবাসী কমিউনিটির ভূমিকা এখানে অপরিসীম। আমি নিজেও শুরুর দিকে প্রবাসী বাঙালি বা অন্যান্য দেশের বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। তারা এখানকার খুঁটিনাটি বিষয় থেকে শুরু করে ভালো কাজ খোঁজা পর্যন্ত সব কিছুতে পরামর্শ দিয়েছিল। ফেসবুকে অনেক গ্রুপ আছে, যেমন ‘Bengalis in Japan’, ‘Expats in Tokyo’ ইত্যাদি, যেখানে আপনি আপনার মতো অনেক মানুষকে খুঁজে পাবেন। এছাড়া, বিভিন্ন শহরে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি সেন্টার থাকে, সেখানে ভাষা বিনিময় প্রোগ্রাম বা কালচারাল ইভেন্টগুলোতে যোগ দিতে পারেন। আমার অনেক বন্ধু এই কমিউনিটিগুলোর মাধ্যমে সারা জীবনের জন্য বন্ধু খুঁজে পেয়েছে এবং এখানকার জীবনকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলেছে। একা একা সব কিছু করার চেষ্টা না করে, এই কমিউনিটিগুলোর সাথে যুক্ত হলে আপনার জাপানের জীবনযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে, এটাই আমার বিশ্বাস।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement